1. live@jamalpursangbad.com : জামালপুর সংবাদ : জামালপুর সংবাদ
  2. info@www.jamalpursangbad.com : জামালপুর সংবাদ :
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইসলামপুর মেলা নামে অশ্লীল নৃত্য ও জুয়া আসর,  যৌথবাহিনী অভিযানে ৩মহিলাসহ ৪১জন আটক মেলান্দহ বাজারে ব্যবসায়ীর উপর হামলা ইসলামপুর হাফিজ পাঠাগারের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ জামালপুরের দুই উপজেলার ১৭ গ্রামের মানুষ। দেওয়ানগঞ্জে দরিদ্রদের শাড়ি লুঙ্গি বিতরণ টেংরাকুড়া আনন্দবাজার সমাজ কল্যাণ সংঘ উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ বকশীগঞ্জে শহীদ পরিবার পেলো জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ঈদ উপহার। জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের বালিঘাটে ইজারার নামে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি স্থানীয়দের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মাদারগঞ্জে দোয়া ও ইফতার মাহফিল দেওয়ানগঞ্জ টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগ

ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি, প্রচলিত আইন ও জনসচেতনা

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে

মো:ওসমান হারুনী:

ধর্ষণ কতটা নিকৃষ্ট, নোংরা ও জঘন্য কাজ-তা বলা বাহূল্য। এটি নারীর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে এবং সমাজের শৃঙ্খলাকেও নষ্ট করে। ধর্ষকের জন্য দুনিয়া-আখিরাতে কঠোর শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে। অন্য সব মতবাদের ধর্ষণকে যেভাবে ভিন্নতার সঙ্গে ও অন্য আঙ্গিকে সংজ্ঞায়িত করেছে, ইসলাম অগ্রহণযোগ্যতা ইসলাম রাখেনি। কারণ, বিবাহবহির্ভূত যেকোনো যৌন সম্পর্কই ইসলামের দৃষ্টিতে নির্ঘাত বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য।

ফলে ইসলাম ব্যভিচারী ও ধর্ষক উভয়ের জন্যই কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করেছে। ইসলামি ফিকাহ ও আইনশাস্ত্র মোতাবেক ধর্ষকের শাস্তিও ব্যভিচারকারীর শাস্তির অনুরূপ। তবে অনেক ইসলামি আইনজ্ঞরা ধর্ষণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কিছু শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন।

ধর্ষণ ও ব্যভিচার স্পষ্ট হারাম:

ইসলাম নারীর মর্যাদা এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে অত্যন্ত স্পষ্ট এবং কঠোর। ইসলাম নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট বিধান রেখেছে। কোরআন এবং হাদিসে নারীর নিরাপত্তা এবং সম্মান প্রতিষ্ঠা করা একান্তভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

‎‎কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

 তোমরা যেন তাদের (নারীদের) নিকটবর্তী হতে না যাও, কিন্তু যে পদ্ধতিতে তোমাদের পুরুষের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। (সুরা আন-নিসা, ৪:১৯)

 ‎এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা নারী ও পুরুষের সম্পর্কের সঠিক সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করেছেন। ইসলামে নারী-পুরুষের মধ্যে যে কোনো অশালীন সম্পর্ক এবং যৌন নিপীড়ন নিষিদ্ধ। নারীদের প্রতি অন্যায়, অশালীন আচরণ এবং ধর্ষণ ইসলামিক আইন অনুযায়ী একটি মারাত্মক অপরাধ। ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি অত্যন্ত কঠোর এবং এটি একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

শিরক ও হত্যা কবিরা গুনাহ। এই দুইটির পর ব্যভিচার বড় ধরনের অপরাধ ও সুস্পষ্ট হারাম কাজ। পবিত্র কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।’ (সুরা আল ইসরা, আয়াত : ৩২)

এই আয়াতে ব্যাখ্যা করে প্রখ্যাত তাফসিরবিশারদ ইমাম কুরতুবি (রহ.) গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “উলামায়ে কেরাম বলেছেন, ‘ব্যভিচার করো না’-এর চেয়ে ‘ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না’-এটি অনেক বেশি কঠোর কথা।”

এর সহজ অর্থ হলো- যেসব বিষয় ও কাজ ব্যভিচারের প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে, তা হারাম। এসব ক্ষেত্রে  যা কিছু ভূমিকা রাখে, সেগুলোও হারাম।

ধর্ষণ রোধে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্ট পরিষ্কার এবং শক্তিশালী। কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে, যা এই অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। ইসলাম নারীদের প্রতি অশালীন দৃষ্টি ও আচরণ নিষিদ্ধ করেছে।

আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন,মুমিনদেরকে বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টির সংযম রাখে এবং নিজেদের চিত্তকে সংযত রাখে। (সুরা নূর, ২৪:৩০)

‎‎এ আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম নারী ও পুরুষের মধ্যে শুদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার কথা বলে। যদি পুরুষরা নারীদের দিকে অশালীন দৃষ্টিতে না তাকায়, তবে ধর্ষণের মতো অপরাধের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। ইসলামের এই শিক্ষা সমাজে একটি শালীন এবং সম্মানজনক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে, যা ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়ক।

ইসলাম ধর্ষককে যে শাস্তি দিয়েছে:

অনেক হাদিসে ধর্ষণের শাস্তির ব্যাপারে আলোচনা এসেছে। শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইসলাম বিষয়টির স্পর্শকাতরতা স্পষ্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষকের শাস্তি এবং ধর্ষিতার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

এক হাদিসে আছে, রাসুল (সা.)-এর যুগে এক নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হলে রাসুল (সা.) ওই নারীকে কোনোরূপ শাস্তি দেননি, তবে ধর্ষককে হদের শাস্তি দেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৫৯৮)

উল্লেখ্য, যেসব শাস্তির পরিমাণ ও পদ্ধতি কোরআন-হাদিসে সুনির্ধারিত রয়েছে, সেগুলোকে ‘হদ’ বলে। অন্য হাদিসে আছে, ‘গনিমতের পঞ্চমাংশে পাওয়া এক দাসির সঙ্গে সরকারি নিয়ন্ত্রণাাধীন এক দাস জোরপূর্বক ব্যভিচার (ধর্ষণ) করে। এতে তার কুমারীত্ব নষ্ট হয়ে যায়। উমর (রা.) ওই গোলামকে বেত্রাঘাত করেন এবং নির্বাসন দেন। কিন্তু দাসিটিকে (অপকর্মে) সে বাধ্য করেছিল বলে তাকে কোনো ধরনের বেত্রাঘাত করেননি।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৯৪৯)

ধর্ষিতার করণীয় কী?

ধর্ষণ ব্যভিচারের সমগোত্রীয় হলেও তার চেয়ে ভয়ংকর অপরাধ। ব্যভিচারের পাশাপাশি ধর্ষণও কবিরা গুনাহ। কোনো ব্যক্তি যদি ধর্ষণের শিকার হন, তাহলে তার সর্বপ্রথম করণীয় হলো, সম্ভব হলে তা প্রতিরোধ করা। এমনকি যদিও তা ধর্ষণকারীকে হত্যা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে, তাতেও ইসলাম সায় দিয়েছে।

সাইদ ইবনে জায়েদ (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে যে ব্যক্তি নিহত হয়েছে, সে শহীদ। জীবন রক্ষা করতে গিয়ে যে নিহত হয়েছে, সেও শহীদ। দ্বীন রক্ষা করতে গিয়ে যে নিহত হয়েছে, সে শহীদ। আর সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে যে নিহত হয়েছে, সেও শহীদ।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৭২, তিরমিজি, হাদিস : ১৪২১)

ইসলামি আইনবিদরা একমত হয়েছেন যে, ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিকে ধর্ষণের কারণে অভিযুক্ত করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে তার কোনো পাপ নেই। কেননা, ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুলবশত করা অপরাধ, ভুলে যাওয়া কাজ ও বলপ্রয়োগকৃত বিষয় ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২০৪৫)

ইসলামে ব্যভিচারের যে শাস্তি:

বিবাহিত ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীকে আমৃত্যু পাথর নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শরিয়তে ব্যভিচারী বিবাহিত হলে তার শাস্তি রজম বা পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড। আর অবিবাহিত ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীকে ১০০ বেত্রাঘাত করা হবে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী; তাদের প্রত্যেককে ১০০ কশাঘাত করবে…।’ (সুরা নুর, আয়াত : ২)

এই শাস্তি প্রয়োগের অধিকার একমাত্র ইসলামি রাষ্ট্রের সরকার ও প্রশাসনের। অন্য কারও এখানে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই।  হাদিসে এসেছে, ‘ব্যভিচারের মন্দ পরিণাম ছয়টি। তিনটি দুনিয়ায় আর তিনটি আখিরাতে।

দুনিয়ার তিনটি হলো-এক. চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট হওয়া। দুই. দরিদ্রতা। তিন. অকালমৃত্যু।

আর আখিরাতের তিনটি হলো এক. আল্লাহর অসন্তুষ্টি, দুই. হিসাব-নিকাশের কঠোরতা। তিন. জাহান্নামের কঠিন শাস্তি। (ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধ, ই. ফা. পৃষ্ঠা : ১০৯)

ধর্ষক-ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যভিচারী ও নির্যাতক:

ধর্ষণের ক্ষেত্রে একপক্ষে ব্যভিচার সংঘটিত হয়। আর অন্যপক্ষ নির্যাতিত। তাই নির্যাতিতের কোনো শাস্তি নেই। কেবল অত্যাচারী ধর্ষকের শাস্তি হবে।

ধর্ষণের ক্ষেত্রে দুটো বিষয় অবধারিতভাবে সংঘটিত হয়। এক. ব্যভিচার। দুই. বলপ্রয়োগ বা ভীতি প্রদর্শন। প্রথমটির জন্য পূর্বোক্ত ব্যভিচারের শাস্তি বরাদ্দ। পরেরটির জন্য ইসলামি আইনজ্ঞদের এক অংশ বলে, ‘মুহারাবা’র শাস্তি হবে। মুহারাবা হলো, পথে কিংবা অন্য কোথাও অস্ত্র দেখিয়ে বা অস্ত্র ছাড়া ভীতি প্রদর্শন করে ডাকাতি করা। এতে কেবল সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে, আবার কেবল হত্যা করা হতে পারে। আবার উভয়টিই হতে পারে।

মোটকথা, হাঙ্গামা ও ত্রাস সৃষ্টির অপরাধের শাস্তি ত্রাস ও হাঙ্গামাহীন অপরাধের শাস্তি থেকে গুরুতর। বাংলাদেশের আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো পুরুষ বিবাহবন্ধন ব্যতীত ষোলো বৎসরের অধিক বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা ষোলো বৎসরের কম বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌনসঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।’

এই সংজ্ঞার সঙ্গে ইসলামের তেমন কোনো বিরোধ নেই। তবে এতে কিছুটা অসামঞ্জস্য রয়েছে। ইসলাম সম্মতি-অসম্মতি উভয় ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বিবাহবহির্ভূত দৈহিক সম্পর্ককে দণ্ডনীয় অপরাধ সাব্যস্ত করেছে। কিন্তু দেশীয় আইনে কেবল অসম্মতির ক্ষেত্রে অপরাধ বলা হয়েছে পার্থক্য এইটুকুই।

ধর্ষণের কারণে মৃত্যু হলে যে শাস্তি

সম্মতি ছাড়া বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক ইসলাম ও দেশীয় আইন এবং সাধারণের কাছে অপরাধ হিসেবে গণ্য। বাংলাদেশের আইনে ধর্ষণের কারণে মৃত্যু না হলে তার মৃত্যুদণ্ড নেই। কেবল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড রয়েছে। পক্ষান্তরে ইসলামে বিবাহিত কেউ ব্যভিচার করলে তাকে পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা রয়েছে।

আইনে ধর্ষণের কারণে মৃত্যু হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর ইসলামে ধর্ষণের কারণে মৃত্যু হলে, প্রথমে ধর্ষক ব্যভিচারের শাস্তি পাওয়ার হত্যার শাস্তি পাবে। যদি অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়, তাহলে ‘কিসাস’ বা মৃত্যুদণ্ড। আর যদি এমন কিছু দিয়ে হয়, সাধারণত যা দিয়ে হত্যা করা যায় না; তাহলে অর্থদণ্ড। যার পরিমাণ একশ উটের মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ (প্রায় কোটি টাকা)।

ধর্ষণের সঙ্গে যদি আরও কোনো অপরাধ ঘটে-যেমন অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা ও ওই ধরনের ভিডিও প্রচার করা ইত্যাদি। তাহলে যদি এসব অপরাধ পাওয়া যায়, তাহলে শাস্তির পরিমাণ আরও বেশি হবে।

দেশের প্রচলিত আইনে ২০২০সালে বাংলাদেশ লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা- সম্পর্কিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে যুগান্তকারী একটি পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা এবং অন্যান্য কিছু পরিবর্তন এনে বাংলাদেশ সরকার ধর্ষণকে সবচেয়ে ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় অনেক মামলা দ্রুত বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

আইনটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ৮ নং আইন) বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শাস্তির উদ্দেশ্যে প্রণীত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। এই আইনটি ধর্ষণ, অপহরণ, যৌতুক, দহনকারী পদার্থ নিক্ষেপের মতো অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান করে। এটি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং তাদের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আইনে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এবং অর্থদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

আইনটি বিশেষভাবে ধর্ষণের শিকার শিশুদের ও ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানের সুরক্ষায় বিধান প্রদান করেছে। এছাড়া, নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আইনটির আওতায় অপরাধ তদন্ত, শাস্তি প্রদান, এবং আপিল প্রক্রিয়াও বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করে। এই আইনটি ২০২০ সালে সর্বশেষ শোধিত হয়।

কোন দেশে ধর্ষণের সাজা কেমন:

সম্প্রতি শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বে ধর্ষণের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুতগতিতে। সাম্প্রতিক সময়ে যেন ধর্ষণের প্রতিযোগিতা চলছে দেশে বিদেশে। নীতি আর নৈতিকতা হারিয়ে গেছে যেন এই পৃথিবী নামক গ্রহ থেকে। তার পরও এই নৈতিকতার অবক্ষয় রুখতে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

চলুন জেনে নিই বিস্তারিতভাবে বাংলাদেশসহ এমনই কিছু দেশে ধর্ষণের শাস্তির আইন সম্পর্কে-

বাংলাদেশ:দেশে ধর্ষণের শাস্তি কি তা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৩৭৬ ধারায় বলা হয়েছে। এই ধারায় ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এই ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি ধর্ষণের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, যদি না ধর্ষিত স্ত্রীলোকটি তার নিজ স্ত্রী হয় ও বারো বৎসরের কম বয়স্কা না হয়; যদি তদ্রুপ হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।’

এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯ নম্বর ধারায়ও ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের কথা বলা আছে।

তবে এ আইনে ধর্ষণের ফলে মৃত্যু হলে সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডে কথা বলা আছে। ৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডণীয় হইবেন। (২) যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যুন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডণীয় হইবেন। (৩) যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহা হইলে ওই দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যুন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডণীয় হইবেন।’ (৪) যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে (ক) ধর্ষণ করিয়া মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডণীয় হইবেন।’

ভারত:প্রতিবেশি দেশ ভারতে ২০১৩ সালে ধর্ষণের শাস্তি আগের চেয়ে কঠোর করা হয়েছে। দেশটিতে বিশেষ ক্ষেত্রে ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। তবে সচরাচর ৭ বছর থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

চীন:এশিয়ার বড় দেশ চীনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ধর্ষকের যৌনাঙ্গ কেটে দেওয়া হয়।

ইরান:এশিয়ার আরেক দেশ ইরানে সাধারণত ধর্ষককে জনসম্মুখে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধর্ষিতার অনুমতি নিয়ে ধর্ষককে জনসম্মুখে একশ’ দোররা মারা অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

গ্রিস:গ্রিসে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আর এই শাস্তি কার্যকর করা হয় আগুনে পুড়িয়ে।

মিশর:মিশরে জনাকীর্ণ এলাকায় জনসম্মুখে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

উত্তর কোরিয়া:উত্তর কোরিয়ায় ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ধর্ষককে ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে মাথায় গুলি করে এই শাস্তি কার্যকর করা হয়।

আফগানিস্তান:আফগানিস্থানে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আদালতের রায়ের চার দিনের মধ্যে ধর্ষকের মাথায় গুলি করেই রায় কার্যকর করা হয়।

সৌদি আরব:সৌদি আরবে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। জনসম্মুখে ধর্ষকের শিরশ্ছেদ করে এই সাজা কার্যকর করা হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত:সংযুক্ত আরব আমিরাতে যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ড। রায়ের সাতদিনের মধ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে সাজা কার্যকর করা হয়।

ফ্রান্স:ফ্রান্সে ধর্ষণের শাস্তি কি তা ভিকটিমের ক্ষতি কতটা গুরুতর, তার ওপর নির্ভর করে। সেখানে ধর্ষকের সাজা ৩০ বছরের কারাদণ্ড থেকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়ার নজির রয়েছে। তবে ১৫ বছরের কারাদণ্ডেরও বিধান আছে।

নেদারল্যান্ড:নেদারল্যান্ডসে ধর্ষণের শাস্তি  হিসেবে ৪ বছর থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই দেশে যেকোনো ধরনের যৌন নিপীড়ন, অনুমতি ছাড়া জোর করে চুম্বনও এ ধরনের অপরাধ হিসেবে গণ্য করে শাস্তি দেওয়া হয়ে থাকে।

রাশিয়া:বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর রাষ্ট্র রাশিয়ায় ধর্ষণের শাস্তি ৩ বছর থেকে ৩০ বছর কারাদণ্ড।

যুক্তরাষ্ট্র:বিশ্বের আরেক শক্তিধর রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুই ধরনের আইন প্রচলিত রয়েছে। এগুলো হলো-অঙ্গরাজ্য আইন এবং ফেডারেল আইন। ফেডারেল আইনে মামলা হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে অঙ্গরাজ্য আইনে একেক অঙ্গরাজ্যে একেক রকম শাস্তি।

নরওয়ে:নরওয়েতে ধর্ষকের সাজা ৪ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড।

ইসরায়েল:ইসরায়েলে ধর্ষণের শাস্তি ৪ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১৬ বছরের কারাদণ্ড।

জনসচেতনা:

সাম্প্রতিক কালে বহু আলোচিত ও পরিচিত একটি শব্দ ধর্ষণ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ ধর্ষণের প্রবণতা উদ্বেগজনক। বাংলাদেশে যেসব সামাজিক সমস্যা প্রকট আকার ধারন করেছে তার মাঝে ধর্ষণ অন্যতম। ধর্ষণ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে আমাদের সমাজে। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন লোমহর্ষক সব ঘটনায় আঁতকে উঠছে দেশবাসী। এই ন্যাক্কাড় জনক ঘঠনা গ্রামে-শহরে, বাড়িতে কিংবা রাস্তায় অফিসে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন কি চলন্ত বাসেও হচ্ছে। শিশু থেকে কিশোরী, যুবতী থেকে বৃদ্ধা, স্কুলছাত্রী থেকে পোশাককর্মী, ডাক্তার, আইনজীবী এমনকি ভিখারিনীও রেহাই পাচ্ছে না হিংস্র থাবা থেকে। প্রতিদিনই মাত্রাতিরিক্ত হারে অসংখ্য শিশু এবং নারী ধর্ষিত হচ্ছে। এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ। যা এভাবে চলতে থাকলে সামজিক কাঠামো ধ্বংস হওয়া নিশ্চিত। ধর্ষণ মুলত এক ধরনের সামাজিক ব্যাধি। অসুস্থ মানসিকতার লোক এ পথ বেছে নেয়। বর্তমান আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা ও ডিজিটাল প্রবণতায় যারা নারীকে যোগ্য সম্মান মর্যাদা দিতে প্রস্তুত নয়, তারাই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে ধর্ষনের মতো অপরাধ করে থাকে। ধর্ষনে শিকার হয়ে অসংখ্য নারী আত্মহত্যা করতে দ্বিধাবোধ করেন না। ধর্ষণে শিকার নারীই সামাজিক ক্ষেত্রে লাঞ্চিত বঞ্চিত হন। ধর্ষণের ফলে নারীর সুন্দর স্বপ্ন এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দেয়। আর সেই ধ্বংসযজ্ঞে পুড়তে থাকে সে নিজে ও পরিবার। বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন, কেন ধর্ষণ হচ্ছে? অপরাধ বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সমাজ পরিবর্তন, পারিবারিক অবহেলা, অপসংস্কৃতি, ভুল শিক্ষা, ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকা, সামাজিক বৈষম্য, ব্যক্তিত্বহীনতা, বেকারত্ব ইত্যাদি ধর্ষণ বৃদ্ধির কারণ। তাছাড়া পশ্চিমা সংস্কৃতি ও বিশ্বায়ণের ক্ষতিকারক প্রভাবে ধর্ষণ প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবাধ তথ্য প্রযুক্তির যুগে, ইন্টারনেট, পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, বগ, ইউটিউব, টিভির বিভিন্ন চ্যানেলে যৌন উত্তেজনাপূর্ণ ছবি দেখে অনেকে লালসা চরিতার্থের পথ খুঁজে ফিরে ও যা দারুণভাবে প্রভাবিত করে। সামাজিক অবক্ষয়, মাদক বিস্তার, কর্মহীনতা, সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব, আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকা, পর্নো ছবির অবাধ বিক্রি, সর্বোপরি নারীর প্রতি পুরুষের হীন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ক্ষমান্বয়ে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা। যা মারাত্মক ব্যাধি আকারে রুপ নিচ্ছে। অথচ এই দেশে এ সংক্রান্তআইন অনুযায়ী রায় কার্যকর হয়েছে, তা সত্ত্বেও দুর্বৃত্তরা এ ধরনের অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে।

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা একটি সামাজিক সমস্যা। মানুষের মধ্যে যে আদিম প্রবৃত্তি, তা দমিয়ে রাখতে হলে শৈশব থেকে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় যথাযথ জ্ঞানচর্চা, নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। অসচেতনতার ফলে বাড়ছে ধর্ষণের মতো ঘটনা। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোতে ধর্ষণের মতো ঘটনা বেশি ঘটে। এসব পরিবারে নানা ধরনের টানাপড়েনের মধ্যে থাকে। এর সুযোগ নেয় স্বার্থ সন্ধ্যানি লোক। সুযোগ বুঝে এসকল পরিবারের শিশুদের নিজের কাছে নেয় এবং অবুঝ শিশুরা তাদের লালসার শিকার হয়। বর্তমানে যেভাবে শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, তা আমাদের কে উদ্বিগ্ন আতঙ্কিত করে তুলেছে। সমাজ কলুষমুক্ত করতে হলে সব অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে পঙ্কিলতার আবর্তে ঘুরপাক খাবে সমাজ। সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে বেশিরভাগ নারীই বিচার চাইতে যান না। আবার যেসব নারী বিচার চাইতে যান, তাদের পুলিশ, প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে যথেষ্ট হেনস্তা হতে হয়। ধর্ষণের অভিযোগগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রমাণ হয় না। ধর্ষণ রোধে চাই সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ। ধর্ষণকারীর বিচার হতে হবে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক। যাতে অন্য কোনো ধর্ষণকারী ধর্ষণ করতে হাজার বার চিন্তা করে। ধর্ষণ শুধু একটি ব্যাধি নয়। দেশ ও জাতির জন্য অভিশাপ। এই অভিশাপের কালো অধ্যায় থেকে সমাজকে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শিশু নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা দান ও মৌলিক অধিকার রক্ষা রাষ্ট্রের গুরু দায়িত্ব। ভবিষ্যতের কান্ডারি শিশুদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির বিকল্প নেই। এ শিশুর সামাজিকীকরণের প্রথম প্রতিষ্ঠান তার পরিবার। আচরণ, মূল্যবোধ, ধারণা, বিশ্বাস, নৈতিকতা, সাহস, শিক্ষা ইত্যাদির ভিত্তি তৈরি করে দেয় তার পরিবার। এটাই তার সারা জীবনের আচরণের মূল চাবিকাঠি। সন্তান কে পারিবারিকভাবে সঠিক শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা দেয়া হলে সেই সন্তান কখনও বিপথগামী হবে না।  পরিবারে যা শিখবে, সারাজীবন সে তাই করবে। পরিবারে সে ভালো কিছু শিখলে ভালো হবে, না হলে সে হবে খারাপ। তাই সকল শিশুকে ছোটবেলা থেকে ইসলামের সঠিক জ্ঞান শিক্ষা দেয়া এবং সেই জ্ঞান অনুযায়ী জীবন প্রতিষ্ঠা করতে উৎসাহিত করতে হবে। তাহলে কখনো শিশুরা কোনো অন্যায় মেনে নিবে না। সত্য ছাড়া অন্য কিছুতে ভয় পাবে না, কিছু গোপন করবে না, তারা সাহসী হবে, কোনো অন্যায় দেখলে শুরুতেই প্রতিবাদ করতে শিখবে।

বাংলাদেশ জনবহুল একটি রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্রের কোথায় কী ঘটছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর পক্ষে সব খোঁজে বের করা সম্ভব নয়। ধর্ষণ ব্যাধি থেকে মুক্ত হতে জাতিকে নৈতিকতাসমৃদ্ধ করে তুলতে হবে। জোর দিয়েই বলতে চাই, দেশের অপরাধ বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সমাজবিশারদ, রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ সবাই এক হয়ে ধর্ষণপ্রবণতার কারণগুলো চিহ্নিত করে নিরাময়ের উপায় বের করতে হবে। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ যে মাত্রায় বেড়েছে, তা লাগাম টেনে না ধরা গেলে সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নেবে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গেল বছর ২০২৪ সালে সারা দেশে ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে মোট ৪০১ জন নারী। এর মধ্যে ধর্ষণ‑পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৩৪ জন এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ৭ জন। ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে ১০৯ জন। এর মধ্যে ধর্ষণের চেষ্টার পর হত্যা করা হয় ১ জনকে। আসকের পক্ষ থেকে ৩১ ডিসেম্বর গণমাধ্যমে এই প্রতিবেদন পাঠানো হয়। এ ছাড়া ২০২৪ সালে ২১ জন নারী গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের কারণে মারা যায় ১ জন। আর রহস্যজনক মৃত্যু হয় ৬ জনের।

আসকের তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের পরিসংখ্যান থেকে আরও জানা যায়, ২০২৪ সালে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ১৬৬ জন নারী। এ ছাড়া উত্ত্যক্তকরণের কারণে আত্মহত্যা করেছে ২ জন ও খুন হয়েছে ৩ জন নারী। এ ছাড়া ২০২৪ সালে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে মোট ৫২৩ জন নারী। এর মধ্যে নির্যাতনের কারণে মারা গেছে ২৭৮ জন এবং আত্মহত্যা করেছে ১৭৪ জন।

দেশের পটপরিবর্তন হলেও কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা চলতি বছরে শুরুতেই ভয়বহতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

দেশের গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে গত কিছু বছর ধরেই ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৩-২৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বর্তমানে তা চলমান সরকারের জন্য এই সমস্যা নির্মূলে একটি  চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক দিকে নারীর প্রতি সহিংসতা ও অপরদিকে আইনি ব্যবস্থার দুর্বলতা, এগুলি একসঙ্গে ধর্ষণসহ নানা অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই

সমাজ থেকে ধর্ষণ নামক এই ব্যাধি দুর করতে সবার আগে আইনী কাঠামো শক্তশালী সহ  আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন ও বৈষম্য দূর করতে হবে। দুর্বল ভিকটিমদের পক্ষে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের সুস্থ-সুন্দর মন ও মূল্যবোধ সম্পন্ন করে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সমাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহ আইন প্রয়োগকারী সংস্হার যথাযথ ভূমিকা রাখতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। অপরাধ তদন্তে ও অপরাধীদের আইন আমলে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষ ভূমিকা ও সঠিক তদন্ত অত্যন্ত জরুরি । কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। কেননা বেকারত্ব সমস্যার কারণে ধর্ষণের প্রবণতা ব্যাপক আকারে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজন শিক্ষিত চাকরিজীবী ছেলে কখনও এমন জঘন্য কার্যকলাপে নিজেকে জড়াতে চাইবে না এটাই স্বাভাবিক। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ধর্ষণ নামক ব্যাধি আমাদের সমাজ থেকে নিশ্চিন্ন করতে হবে।

পরিশেষে ধর্ষণ একটি ভয়াবহ অপরাধ, যা সমাজের শৃঙ্খলা, শান্তি এবং মানবাধিকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ। ইসলাম ধর্ষণ রোধে একটি শক্তিশালী দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে, যা ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় স্তরে কার্যকর হতে পারে।  পাশাপাশি সরকার যদি ইসলামি মূল্যবোধ এবং আইনগত শাস্তির প্রয়োগ নিশ্চিত করে, এবং সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করে, তবে বাংলাদেশে ধর্ষণের মতো অপরাধ রোধ সম্ভব। ইসলামিক নীতি, আইনি পদক্ষেপ এবং সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে আমরা একটি নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন করতে পারি।

লেখক:সম্পাদক-জামালপুর সংবাদ osmanharunee@gmail.com

 

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট